২০২৫ সাল

বিশ্বব্যাপী গাড়ি বিক্রিতে প্রথমবারের মতো শীর্ষে চীন

বিশ্বব্যাপী নতুন যানবাহন বিক্রিতে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করতে যাচ্ছে চীনা গাড়ি নির্মাতারা।

বিশ্বব্যাপী নতুন যানবাহন বিক্রিতে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করতে যাচ্ছে চীনা গাড়ি নির্মাতারা। ফলে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শীর্ষে থাকা জাপানি নির্মাতারা দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাবে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে গাড়ি নির্মাতাদের ঘোষণাপত্র এবং এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মোবিলিটির তথ্যের ভিত্তিতে পুরো বছরের গাড়ি বিক্রির হিসাব প্রাক্কলন করেছে নিক্কেই এশিয়া। এ হিসাবে বাণিজ্যিক যানবাহনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং দেশীয় বাজারের বিক্রির পাশাপাশি রফতানিও ধরা হয়েছে।

প্রাক্কলন অনুসারে, ২০২৫ সালে চীনা গাড়ির বৈশ্বিক বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে চীন বিশ্বের শীর্ষ গাড়ি রফতানিকারক দেশ হয়ে ওঠে আর এবার সামগ্রিক বিক্রিতেও শীর্ষস্থান দখলের পথে রয়েছে।

চীনা নির্মাতাদের মোট বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশ হিস্যা অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর। চীন সরকার বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিডের ব্যবহার জোরদার করছে। বর্তমানে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রিতে নতুন ধরনের জ্বালানিভিত্তিক যানবাহনের হিস্যা প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।

অন্যদিকে জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের বৈশ্বিক বিক্রি প্রায় স্থির থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যাটি দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটের কিছুটা নিচে। একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান বৈশ্বিক আধিপত্যের জন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ সময়ে জাপানের বিক্রি প্রায় ৩ কোটি ইউনিটে পৌঁছেছিল।

২০২২ সালে চীনের তুলনায় জাপানের যে প্রায় ৮০ লাখ ইউনিটের ব্যবধান ছিল, তা মাত্র তিন বছরের মধ্যেই পুরোপুরি মিলিয়ে গেছে।

চীনে উৎপাদন সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে দাম কমানোর প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হচ্ছে। চীনের শীর্ষ ইভি নির্মাতা বিওয়াইডিসহ অন্যান্য কোম্পানি দাম কমানোর কৌশলের দিকে ঝুঁকছে। চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত বিক্রি হওয়া নতুন ধারার জ্বালানি ব্যবহারকারী যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মূল্য পরিসর ছিল ১ থেকে দেড় লাখ ইউয়ান (প্রায় ১৪-২১ হারের ডলারের সমপরিমাণ), যা মোট বিক্রির ২৩ শতাংশ।

দেশীয় বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ খারাপ হওয়ায় চীনা নির্মাতারা রফতানির ওপর আরো বেশি নির্ভর করছে। যাকে ডিফ্লেশনারি এক্সপোর্টও বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দেশ থেকে অতিরিক্ত ও সস্তা পণ্য বিদেশে পাঠিয়ে মূল্যপতনের চাপ অন্য বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে চীন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানে এতদিন জাপানি নির্মাতাদের আধিপত্য ছিল। সেখানে চীনা গাড়ির বিক্রি ২০২৫ সালে ৪৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করা হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে নতুন গাড়ি বিক্রির ৬৯ শতাংশ ছিল জাপানি ব্র্যান্ডের, যা প্রায় পাঁচ বছর আগে ছিল ৯০ শতাংশের মতো।

ইউরোপে চীনা গাড়ির বিক্রি ৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২৩ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীন নির্মিত ইভির ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে। তবে চীনা নির্মাতারা দ্রুত প্লাগ-ইন হাইব্রিডের রফতানি বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ এসব যানবাহন শুল্কের আওতায় পড়ে না।

উদীয়মান বাজারগুলোয়ও চীনা গাড়ির বিক্রি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আফ্রিকায় বিক্রি ৩২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার এবং লাতিন আমেরিকায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে বলে প্রাক্কলনে উঠে এসেছে।

চীন যখন আরো প্রতিষ্ঠিত অটো শক্তিতে পরিণত হচ্ছে, তখন বিভিন্ন দেশ নিজস্ব শিল্প সুরক্ষায় শুল্ক আরোপ এবং নতুন মানদণ্ড প্রণয়নের ব্যবস্থা নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা চীন নির্মিত ইভির ওপর শতভাগের বেশি শুল্ক আরোপ করেছে, ইইউতে এ শুল্ক সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। একই সঙ্গে ইইউ ছোট আকারের ইভির জন্য নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে ২০২৫ সালে জাপানি নির্মাতাদের গাড়ি বিক্রি কমেছে। তারা নতুন স্থানীয় নির্মাতাদের কাছে বাজার অংশ হারাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু জাপানি নির্মাতা চীনা উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে।

আরও